চুল নিয়ে সব চাইতে বড় সমস্যা হচ্ছে অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা। নারী-পুরুষ উভয়েরই এই সমস্যা হয়ে থাকে। বিভিন্ন কারণে চুল পড়তে পারে। বংশগত, পরিবেশগত, দুশ্চিন্তা, পুষ্টিহীনতা স্ট্রেস ইত্যাদি নানা কারণে চুল পড়তে পারে। প্রথম দিকে চুল কম পড়লেও আস্তে আস্তে চুল পড়ার হার অনেক বেড়ে যায়। তাই শুরু দিকে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব হলে, চুল পড়া বন্ধ করা সম্ভব

চুল তো প্রতিদিনইপড়ে, তবে হ্যাঁ, ১০০-১২৫ টার বেশী পড়া অবশ্যই সমস্যা, তবে তার সমাধানও আছে।

চুল কেন পড়ে?

  • শতকরা ৯৫ ভাগ চুল পড়ার কারণ জিনগত/ বংশগত ।এ কারণে প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেদের মাথার মাঝখানের ও কপালের দুই পাশের এবং মেয়েদের মাথার উপরিভাগের ওদু’পাশের চুল পাতলা হয়ে যায়।
  • খুস্কি তো চুল এর বিশ্বস্ত শত্রু, চুল তো সে ফেলবেই।
  • অতিরিক্ত শ্যাম্পু করা, স্টাইল করা ও রঙ করা চুল এর জন্য ক্ষতিকর।
  • থাইরয়েড হরমোনজনিত বালিভারের সমস্যাজনিত কারণেও চুল পড়তে পারে।
  • কেমোথেরাপি নিলে চুল পড়ে যায়।
  • মহিলাদের মেনোপজ হলে অর্থাৎ মাসিক বন্ধ হয়ে গেলে চুল পড়ে।
  • অতিরিক্ত ডায়েট কন্ট্রোল করছেন ? সাবধান! এতেও কিন্তু চুল পড়ে।
  • ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক জনিত ইনফেকশনের কারণে চুল কমে
  • চুল এর অযত্ন হলে সে কি আর থাকে মাথায়?
  • কেমিক্যাল ব্যবহারেও চুল পড়ে।
  • মানসিক চাপ চুল এর উপরেও চাপ তৈরি করে
  • পরিবারের কারো রিউমাটয়েড আথ্রাটিস, হাপানি, প্যারনেসিয়াস অ্যানিমিয়া ইত্যাদি রোগ থাকলে সেই পরিবারের লোকজনের চুল পড়া রোগও হতে পারে।
  • রক্তস্বল্পতা, যেমনঃ আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা চুল পড়ার কারণ ।
  • বিভিন্ন রকমের রোগ যেমনঃ ডায়াবেটিস, অটোইমিউন রোগ যেমন- লুপাস, মূত্রনালীর প্রদাহ, পলিসিস্‌টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম ইত্যাদি চুল পড়ার কারণ।
  • নানা ধরনের ওষুধ যেমনঃ জন্মনিয়ন্ত্রিন পিল, এনটি ডিপ্রেসেন্ট, বিটা ব্লকার, কিছু এনএসএআইডি, ইমিউনো সাপ্রেসিভ এজেন্টস ইত্যাদি সেবন করলে এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে চুল পড়ে যেতে পারে।
  • হঠাৎ করে ওজন কমে যাচ্ছে ? চুল ও কমে যেতে পারে।
  • হজমের সমস্যায়ও চুল পড়তে দেখা যায়।
  • প্রয়োজন মতো না ঘুমালে কিন্তু মাথায় চুল খুঁজে নাও পেতে পারেন।
  • গর্ভাবস্থায় চুল পড়তে পারে।
  • বড় কোন অপারেশনের পর চুল পড়তে পারে।
  • ভিটামিন ই কম খেলেও চুল কমতে পারে
  • অতি মাত্রায় ভিটামিন ‘এ’ খাবেন না, চুল কিন্তু পড়তে পারে।
  • অতি কর্মব্যস্ততা চুল পড়ার অন্যতম কারণ।
  • গরমে চুল পড়া বেড়ে যায়।

কিছু ভুল যা আমরা ঠিক বলেই জানিঃ

  • লম্বা সময় টুপি পড়ে থাকলে চুল পড়া বাড়ে।
  • শ্যাম্পু করলে চুল পড়ে।
  • লম্বা চুল চুল এর গোড়ায় বাড়তি চাপ প্রয়োগ করে।
  • কালার বা কন্ডিশনিংয়ের কারণে চুল পড়ে।
  • ম্যাসাজিং করে চুল পড়া বন্ধ করা যায়।

পেঁয়াজের রস মাথায় নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে। মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং জীবাণুমুক্ত রাখতে সাহায্য করে।

ব্যবহার পদ্ধতি

১টি বড় পেঁয়াজ ভালো করে পিষে ছাকনি দিয়ে ছেকে রস বের করে নিতে হবে। তারপর এই রস পুরো মাথার ত্বক ও চুলে লাগিয়ে একঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে।

পেঁয়াজের গন্ধ বেশ তীব্র, যদি সহ্য না হয় তবে পেঁয়াজের রসের সঙ্গে গোলাপ জল মেশানো যেতে পারে। একঘণ্টা পর মাথা শ্যাম্পু দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

চুল পড়ার পরিমাণের উপর নির্ভর করে প্যাকটি সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করা যাবে।