মুখের খাবার জমে ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়। এই ব্যাকটেরিয়া মুখের দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। বিব্রতকর হলেও সত্যি, কথা বলার সময় অনেকের মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। এই সমস্যা যাদের রয়েছে তারাও হয়তো নিয়মিত দাঁত পরিস্কার করেন। তারপরও মুখ থেকে গন্ধটা দূর হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আসলে দাঁতগুলো ঝকঝকে পরিস্কার হলেও মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে।

প্রথমেই খেয়াল করা দরকার মুখে গন্ধ হওয়ার বিষয়টি কি সাময়িক না কি দীর্ঘদিন ধরেই এটা হচ্ছে।শ্বাস ফেলার সময় বা কথা বলার সময় মুখ থেকে বাজে গন্ধ বের হওয়ার বিষয়টা যদি দীর্ঘদিন ধরেই চলতে থাকে তাহলে বুঝতে হবে ঘটনাটা গুরুতর।

কাঁচা পেঁয়াজ খেলে, মুখের ভেতরের স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে, দাঁতের সমস্যা থাকলে বা এমনকি ডিহাইড্রেশনে ভুগলেও মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। তবে অনেক সময় আমরা নিজেদের মুখের গন্ধ নিজেরা টের পাই না। কারও সঙ্গে কথা বলতে গেলে এ নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।

দাঁতে ক্ষয় ও মাড়িতে নানা রোগের ফলে মুখে দুর্গন্ধ হয়। শরীরের ভেতরের নানা সমস্যার কারণেও মুখে বাজে গন্ধ হতে পারে। তাই সবার আগে দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মুখের ভেতরের স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে মুখে দুর্গন্ধ হয়। এটি এড়াতে দিনে দু’বার ব্রাশ করতে হবে। যদি তাতেও না কমে তাহলে বেকিং সোডা ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি মুখের ভেতরের এসিডকে নিয়ন্ত্রণ করবে ও ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি আটকাবে।

শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হলে মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। ফলে বেশি করে পানি পান করতে হবে। এর ফলে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবারও বেরিয়ে যাবে।

ব্রাশ করার সময়ে শুধু দাঁত পরিষ্কার করলেই হবে না। জিভকেও সমানভাবে পরিষ্কার করতে হবে। তাহলেই মুখের সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো হবে ও বাজে গন্ধ দূর হবে।

মাঝে মধ্যে চিনিবিহীন চুইংগাম চিবুলে মুখে লালার উৎপাদন ভালো হয়। এর ফলে মুখে ভেতরে ব্যাকটেরিয়ার বাড়বাড়ন্ত বন্ধ হবে এবং দুর্গন্ধ থাকবে না।

চা পানও মুখের দুর্গন্ধ তাড়াতে সহায়ক। চায়ের অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান মুখের ভেতরের ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে ও দুর্গন্ধ দূর করে। আঁশসমৃদ্ধ তাজা ফল যেমন আপেল, পেয়ারা, গাজর ও আনারস খেলে মুখের দুর্গন্ধ কম হয়।

দ্রুত মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে ধনিয়া পাতা, পুদিনা পাতা চিবিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

হাতের কাছের ব্যাগে বা পকেটে লবঙ্গ, এলাচ বা মৌরি রাখা যেতে পারে। মুখে বা নিঃশ্বাসে গন্ধ ভাব এলেই মুখে দিন, দুর্গন্ধ থাকবে না।

সিগারেটই হোক বা জর্দা দেওয়া পান। যেকোনো তামাকজাতীয় দ্রব্য সেবন মুখে গন্ধসহ অনেক ধরনের রোগ হতে পারে। ফলে, এমন অভ্যাস থাকলে সেটা ত্যাগ করুন।

বড় কোন রোগের কারণে মুখে দুর্গন্ধ হয়ে থাকলে রোগ নিরাময়ের জন্য চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হবে।