আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি। প্রায় প্রতিদিন ভাতের সঙ্গে মাছ পাতে থাকে। আর ইলিশ মাছ হলেতো কথাই নেই, পেট ভরে খেয়ে দেই ভাতঘুম। শুধু তাই নয় শ্রাবণ মাসের এই অবিরাম বৃষ্টিতে চলে জম্পেস খিচুড়ির আয়োজন, সঙ্গে গরুর মাংসের রেজালা থাকলে খাবারের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ার যোগাড় হয়। কিন্তু রোজ এতো মজা করে ভাত খাচ্ছেন, দয়া করে নিজেকে একটু আয়নায় দেখুন।

কি তলপেটে মেদ জমেছে? ওজন বেড়ে শরীর ভরি লাগছে? কেমন যেন মুটিয়ে গেছেন? ভাবছেন এখন কী হবে? একটু পেট মোটা হতে শুরু করলেই সিংহভাগ মানুষ ওজন কমানোর প্রচেষ্টায় লেগে যায়। খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে পাশাপাশি চালাতে থাকে শারীরির কসরত। এতে শরীরের ভালো তো হয়ই না, উল্টে আরও ক্ষতি হয়ে যায়। তাই তো নিজের স্বাস্থ্যের ওজন কতো হওয়া উচিত, সে সম্পর্কে জ্ঞান থাকাটা জরুরি।

কিন্তু প্রশ্ন একটাই, কী করে বুঝবেন যে আপনার উচ্চতার হিসেবে ওজন একেবারে ঠিক আছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে একেক জনের ওজন এক এক রকম হয়। এক্ষেত্রে কতগুলি বিষয় নজরে রাখতে হবে, কারণ ওজন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে শরীরের কর্মক্ষমতা কমে যেতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এনার্জির ঘাটিত দেখা দেয়।

ওজন নিয়ন্ত্রণে আছে বোঝার উপায়:

  • ওজন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা হয়ে থাকে। তাই এই বিষয়গুলির দিকে নজর রাখাটা একান্ত প্রয়োজন। যদি পরীক্ষা করে দেখেন যে এই তিনটি রোগের কোনোটাই আপনার নেই, তাহলে কোনো চিন্তা নেই।
  • আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করেও আপনি ওজন সম্পর্কে সচেতন হতে পারবেন। যেমন আজকাল ট্রেন্ডি ড্রেস খুব জনপ্রিয়। সেগুলো কিনে পরলে যদি পেট বেরিয়ে থাকে অথবা দেখতে খারাপ লাগে, তাহলে ওজন কমানোর বিষয়ে ভাবতেই পারেন।
  • শরীর সুস্থ রাখতে চিকিৎসক যে ওজনের মাপকাঠি বেধে দিয়েছেন, সেই লক্ষে পৌঁছানোর পর আর যাতে ওয়েট লস না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। না হলে শরীর ভাঙতে শুরু করবে। সেই সঙ্গে নানা রোগও আক্রমণ করে বসতে পারে।
  • ডায়াটেশিয়ান বলে দেয়া পদ্ধতি মেনে যদি দেখেন ওজন সেভাবে কমছে না, তাহলে সেই একই ডায়েটচার্ট বা শরীরচর্চার নিয়ম মেনে চলবেন না। পরিবর্তে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নতুন কোনো পদ্ধতির সাহায্য নিতে পারেন। প্রয়োজনে ডায়াটের দিকেও নজর দিতে পারেন।

যে পরিমাণে ক্যালরি শরীরে ঢুকছে, সেই পরিমাণে যদি ক্ষয় না হয়, তাহলে কিন্তু শত চেষ্টা করেও ওজন কমানো যাবে না। এক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। তা হল ওজন কমার পর কীভাবে ধিরে ধিরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে হবে, সে সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের থেকে জেনে নেয়াটা জরুরি।