আপনি ক্রমশ টের পাবেন কোথায় যেন একটা সীমারেখা রচিত হয়েছে আপনার ও আপনার পারিপার্শ্বিকের মধ্যে। আপনি আর ফিরে যেতে পারবেন না আপনার পুরনো জীবনধারায়।

চিকিৎসকরাই বলেন ‘সাইলেন্ট কিলার’। নিঃসাড়ে এই ঘাতক কখন আপনার শরীরে বাসা বাঁধে, আপনি টের পান না। তার পরে একদিন বিভিন্ন উপসর্গ দেখে রক্ত পরীক্ষা। আর রিপোর্টে শর্করার পরিমাণ দেখে আপনার চোখ ছানাবড়া। কিন্তু তখন কিছুই করার নেই আপনার। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা আর টেনশন হয়ে পড়ে নিত্যসঙ্গী। আপনি ক্রমশ টের পান কোথায় যেন একটা সীমারেখা রচিত হয়েছে আপনার ও আপনার পারিপার্শ্বিকের মধ্যে। আপনি আর ফিরে যেতে পারবেন না আপনার পুরনো জীবনধারায়।

ডায়াবেটিস কোথায় কোথায় আপনাকে আলাদা করে দিচ্ছে অন্যদের থেকে, জেনে রাখলে মানিয়ে নিতে সুবিধে হবে পোস্ট-ডায়াবেটিক জীবনশৈলীর সঙ্গে।

১. আপনার সঙ্গী হয়ে উঠবে ইনসুলিন ইঞ্জেকশন। দিনে দু’বার তো বটেই, তেমন অবস্থায় পৌঁছলে দিনে ৫ বারও নিতে হতে পারে এই ইঞ্জেকশন।

২. কী খাবেন আর কী খাবেন না, ঠিক করতে করতেই আপনার দিন কেটে যাবে। সঠিক এবং সুষম খাবারটি কী হতে পারে, তা আপনার ধারণারও বাইরে।

৩. তেলযুক্ত খাবার একেবারেই নিষিদ্ধ হয়ে যাবে আপনার জন্য। প্রিয় লুচি-আলুভাজাটিও আর মুখে তোলা যাবে না।

৪. একটু-আধটু কড়া পানীয়ে চুমুক আপনার একান্ত আরামের জায়গা ছিল একদা। মাঝে মাঝে মাত্রা ছাড়াতেন। কিন্তু ডায়াবেটিসের পরে আর তেমনটা হবে না। মাপা হাসি চাপা কান্না সয়ে চুমুক দিতে হবে অমৃতের পাত্রে।

৫. জল পান বেড়ে যাবে। স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি জল গলাধঃকরণ করতে হবে। আর অতিরিক্ত জলপানের ফলে টয়লেট গমনও বাড়বে।

৬. দিব্যি আলসেমিতে দিন কাটতো আপনার। ব্যায়াম-ট্যায়াম আপনার অভিধানেও ছিল না। কিন্তু এবার থেকে আর তা নয়। লিভারকে গ্লুকোজমুক্ত রাখতে ঘাম ঝরাতেই হবে আপনাকে। বেলা করে ঘুম থেকে ওঠা খতম। কাকভোরে বিছানা ত্যাগ ও মাঠে গিয়ে কসরত এখন থেকে কম্পালসারি।

৭. ডায়াবেটিসের ফলে দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হওয়া নৈমিত্তিক বিষয়। ছানি পড়া ও গ্লুকোমার মতো অসুখও অসম্ভব নয়। নিয়মিত চোখের ডাক্তারের কাছে ভিজিট দেওয়াটা আপনার রুটিনের অঙ্গীভূত হতে বাধ্য।

৮. রক্তে চিনি বেড়ে গেল কি না— এই দুশ্চিন্তা আপনার নিত্যসঙ্গী হতে বাধ্য। ডাক্তারের কাছে গমনও নিয়মিত হয়ে পড়বে।

একবার ডায়াবেটিস ধরা পড়লে আপনি আগের জীবনকে ফিরে পাবেন না ঠিকই। তবে, জীবনকে সইয়ে নিতেই হয়। সঠিক চিকিৎসা আর জীবনশৈলী বজায় রাখলে এতটা কষ্ট আপনাকে পেতে না-ও হতে পারে। তাই ৩৫ বছরের পর থেকে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করান। সামান্য এদিক-ওদিক দেখলে সঠিক চিকিৎসকের কাছে যান। ডায়াটেশিয়ানের পরামর্শ মেনে চলুন। মনে হয়, জীবন খুব বেশি বদলাবে না আপনার।