গাব একটি সুস্বাদু, মিষ্টি ও কোষযুক্ত ফল। সংস্কৃত ভাষায় এর নাম ‘তিন্দুকা’, হিন্দি ভাষায় ‘গাব’ এবং তামিল ভাষায় ‘তুম্বিকা’। গাবের আদি নিবাস ফিলিপাইন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া।

গাব কাঁচা অবস্থায় সবুজ থাকে পাকলে হলুদ হয়ে যায়। গাব কার্বহাইড্রেট ও মিনারেল সমৃদ্ধ একটি ফল। বীজ খোসা বাদে এর মাংস মাখনের ন্যায় নরম, সাদা অংশ হালকা মিষ্টি স্বাদের এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ফ্রস ফল হিসেবে খাওয়া যায়।

  • আমাদের দেশে দুই ধরনের গাব পাওয়া যায়, দেশি ও বিলাতি। দেশি পাকা গাবের ভেতরটা আঠালো ও চটচটে হয়।
    আর বিলাতি গাবের খোসার রঙ লাল, খয়েরি, বাদামি বা ধূসর এবং আকৃতি গোলাকার, লম্বাটে বা ওভাল হয়ে থাকে। খোসার ওপরটা মখমলের মতো। ফলের ভেতরটা সাদা।
  • আমাদের দেশে বেশ কয়েক ধরনের গাব ফল বৃক্ষ দেখা যায়। এ ফলটি খুবই ফলনশীল। প্রায় সব ধরনের সুনিষ্কাশিত মাটিতেই গাব গাছ জন্মে। সমুদ্র সমতল থেকে ২৪০০ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত এ ফলটি জন্মাতে দেখা যায়।
  • একটি গাবে ( ১০০ গ্রাম) খাদ্যোপযোগী অংশের পুষ্টিমান ফ্যাট ০.২২-০.৩৮ গ্রাম, প্রোটিন ০.৭৫ গ্রাম, চিনি ১১.৪৭ গ্রাম, কার্বহাইড্রেট ৫.৪৯- ৬.১২ গ্রাম, পটাশিয়াম ৩০৩ মি. ৩০৩মি. গ্রাম, সোডিয়াম ১১০ মি. গ্রাম, আঁশ ০.৭৪-১.৭৬ গ্রাম ও ক্যালরি ৫০৪ থাকে।

গাবের পুষ্টি ও ঔষধি গুণাগুণ:

  •  গাবের পাতা সিদ্ধ করা কাথ চর্মরোগ সারাতে সাহায্য করে। এই ফলের পাতা সিদ্ধ করা গরম পানি দিয়ে গার্গল করলে ঠাণ্ডা কাশি কমে যায়।
  •  দেশি গাব তেমন একটা খাওয়া হয় না, ভেষজ চিকিৎসায় এর ছাল ও কাঁচা ফলের কিছু ব্যবহার আছে। এই গাব হতে ট্যানিন জাতীয় আঠা প্রস্তুত করা হয়। যা জালে, পশুর চামড়ায় এবং নৌকায় মাখানো হয়।
  •  গাব গাছের কাঠ কালচে, ঘন ও শক্ত যা ঘরবাড়ি তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়।