অনলাইন ডেস্ক : মাংসপেশিতে টান পড়া একটি অতি পরিচিত বিষয়। ডাক্তারী ভাষায় এটি ‘মাসল পুল’, ‘স্ট্রেইন’, ‘মাসল স্পাজম’, ‘ক্র্যাম্প’ ইত্যাদি নামে পরিচিত। তবে লোকমুখে এর পরিচিত রগে টান পড়া বা খিল ধরা হিসেবে। বেকায়দায় ঘুমানোর কারণে ঘাড়ে ব্যথা হওয়াও মাংসপেশিতে টান পড়ারই একটি ধরণ বলে গনমাধ্যমকে জানালেন জেড. এইচ সিকদার উইমেন্স মেডিকাল কলেজের ফিজিওথেরাপি বিভাগ এবং ঢাকার সাইন্সল্যাবে অবস্থিত পিপলস পেইন ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ক্লিনিকের প্রধান কনসালটেন্ট ডা. শিবলী নোমানী।

শরীরের যেকোনো একটি মাংসপেশি অনেকক্ষণ ধরে ব্যবহৃত হলে, আকস্মিক নড়াচড়া, ভারি কিছু উঠানোর সময় বেকায়দায় কোনো পেশিতে টান পড়া ইত্যাদি কারণে মাংসপেশি চাপ পড়ে। দুশ্চিন্তা থেকেও মাংসপেশিতে টান পড়তে পারে।

খাদ্যাভ্যাসের যেমন পানি কম খাওয়া, শরীরে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের অভাব ইত্যাদি কারণেও মাংসপেশিতে টান পড়তে পারে।

শরীরের কোন মাংসপেশিতে টান পড়বে তা নির্ভর করে একজন ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবনযাত্রার উপর। যারা দীর্ঘসময় ধরে কম্পিউটারে কিংবা চেয়ারে বসে কাজ করেন কিংবা লম্বা সময় যানবাহন চালান, তাদের কাঁধ, ঘাড়, পিঠের মাংসপেশিতে টান পড়ার আশঙ্কা বেশি। খেলোয়াড়দের হাত ও পায়ের মাংসপেশিতে টান পড়ার ঝুঁকি থাকে।

মাংসপেশিতে টান পড়ার দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা সম্পর্কে ডা. শিবলী নোমানী বলেন, “পেশির টান পুরোপুরি উপশম না হলে ওই পেশিতে ‘নডিউল’ তৈরি হতে পারে। মাংসপেশির একটি অংশ স্থায়ীভাবে সঙ্কুচিত হয়ে যাওয়াকে নডিউল বলা হয়। এই নডিউলের কারণে হাড় ও পেশির মধ্যকার সমন্বয় নষ্ট হয়। ফলে হাড়ের জোড়ায় ব্যথা হতে পারে। বয়স বেশি হলে আর্থ্রাইটিসের জটিলতা দেখা দিতে পারে।”

করণীয় : আক্রান্ত স্থানে মালিশ করা উচিত নয়। যারা দীর্ঘ সময় যানবাহন চালান তাদেরকে কিছুক্ষণ পর পর পানি পান করার এবং বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক।
তিনি বলেন, “সাধারণত একটানা দুই ঘণ্টা যানবাহন চালানোকে আমরা ‘দীর্ঘ সময়’ বিবেচনা করে থাকি। তবে মানুষভেদে তা কমবেশি হয়ে থাকে।”

“যারা মোটরসাইকেল চালান তাদের মাংসপেশিতে টান পড়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এক্ষেত্রে সম্ভব হলে হাত, পা, ঘাড় পিঠ ইত্যাদি ছড়িয়ে শরীরের মাংসপেশিগুলোকে ‘স্ট্রেচ’ করে নিতে হবে। এছাড়াও খেজুর, চকলেট, চা, কার্বোনেইটেড পানীয় ইত্যাদি খেতে পারেন। ব্যয়াম ও খেলাধুলার আগে অবশ্যই হালকা ব্যয়ামের মাধ্যমে মাংসপেশিগুলোকে সচল করে নিতে হবে।”

প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে ডা. নোমানী বলেন, “যে স্থানে টান পড়বে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে বরফ দিতে হবে। আক্রান্ত স্থানে মালিশ করা উচিত নয়। এর ফলে ব্যথা আরও বেড়ে যেতে পারে। টান পড়া পেশিকে সংকুচিত-প্রসারিত না করে টান টান অবস্থায় ধরে রাখতে হবে। লবণ পানি, ডাব, স্যালাইন ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে।”