চিত্রটি খুবই পরিচিত। রাস্তায় জটলা, ছোট্ট মাইক্রোফোনে ভেসে আসছে, গাছের মাইর, জগতের বাইর। মানুষ বেঈমানি করে কিন্তু গাছ কখনো করে না।আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রসার হয়েছে। প্রত্যেক দিন নতুন নতুন রোগের প্রতিষেধক অবিষ্কার হচ্ছে। তার মানে এই নয়, ঔষধি গাছের কদর কমে গেছে।এখনো ঘরোয়াভাবে টাইফয়েড জ্বর, ডায়রিয়া, কলেরা, পেটের পীড়ার মতো রোগ নিরাময়ে বিভিন্ন ঔষধি গাছ ব্যবহার হয়ে আসছে।

বিনামূল্যে পাওয়া যায় এমন অনেক ভেষজ গাছ রয়েছে, যা আপনার যৌবনকে ধরে রাখতে দারুণ সহায়তা করে।এমনি একটি ভেষজ গাছ হলো থানকুনি। অতিপরিচিত এই গাছের পাতা পুকুরপাড় বা জলাশয়ে হরহামেশাই পাওয়া যায়।থানকুনি পাতা মিয়মিত খেলে পেটের অসুখে কখনো ভুগতে হবে না। শরীর সতেজ থাকে। বাচ্চাদের বুদ্ধি বিকাশেও দারুণ কার্যকর। সুস্থ থেকে যৌবন ধরে রাখতে থানকুনি পাতার ভেষজ গুণগুলো দেখে নেওয়া যাক;

১. পেটের রোগ নির্মূলে থানকুনি পাতার বিকল্প নেই। নিয়মিত সেবনে যেকোনো পেটের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

২. থানকুনি পাতার রস খেলে আলসার, এগজিমা, হাঁপানিসহ নানা চর্মরোগ ভালো হয়। মৃত কোষ সক্রিয় করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে।

৩. থানকুনি পাতার রস মস্তিষ্কের কোষ গঠনে সহায়তা এবং রক্ত চলাচল বাড়ায়। ফলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

৪. থানকুনি পাতার রস নিয়মিত সেবনে স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হয়।

৫. শরীরে পুরোনো ক্ষত আছে। থানকুনি পাতা সিদ্ধ করে তার পানি কয়েক দিন ক্ষত স্থানে ব্যবহার করলে দারুণ কাজ দেয়। সদ্য ক্ষতে থানকুনি পাতা বেটে লাগালেও নিরাময় হয়ে যাবে।

৬. থানকুনি পাতার রস চুলে মাখলে চুল পড়া বন্ধ হবে। এমনকি নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে এটি।

৭. বয়স বাড়লেও যৌবন ধরে রেখে দেয় থানকুনি পাতার রস। প্রতিদিন এক গ্লাস দুধে ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে খেলে চেহারায় লাবণ্য চলে আসে। এতে আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায়।

৮. দাঁতের বিভিন্ন রোগ সারাতেও থানকুনির জুড়ি মেলা ভার। মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে বা দাঁতে ব্যথা করলে একটা বড় বাটিতে থানকুনি পাতা সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে কুলকুচি করলে উপকার পাওয়া যায় চটজলদি।